Friday, March 2, 2018

মধ্যবিত্ত, এবং একজন সেলেব্রিটি

বর্তমানে সেলেব্রিটি হওয়ার অন্যতম সহজ মাধ্যম মনে হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে কিছু লেখা। সেলেব্রিটি হতে চাইলে আপনিও লিখতে পারেন  মধ্যবিত্ত নিয়ে। :D
.
(আমিও মধ্যবিত্ত।  কিন্তু কিছু পাবলিক মধ্যবিত্তকে পুঁজি করে লাইক ব্যবসা করতে গিয়ে এই শ্রেণিটিকে তাদের লেখায় নিচে নামাতে নামাতে সবার কাছে একেবারে করুণার পাত্র বানিয়ে ছেড়েছে। নিজের মধ্যবিত্ত জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা কেউ শেয়ার করলে তা ভালোই লাগে। যেমন কিছুদিন আগে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান স্যারের ছাত্রজীবনে তাঁর মধ্যবিত্ত পরিবারের নানা অভিজ্ঞতার বর্ণনা সম্পর্কিত একটা লেখা পড়েছিলাম। খুব ভালো লেগেছিল। কিন্তু, যারা সেলেব্রিটি হওয়ার উদ্দেশ্যে সকল মধ্যবিত্ত শ্রেণির সর্বোচ্চ লাইকের কথা মাথায় রেখে একটা সস্তা গল্প বানিয়ে মধ্যবিত্তদের অতি অসহায় রূপে প্রকাশ করেন, তাদের প্রতি আমার চরম এলার্জি আছে। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। কেউ একমত না হলে avoid করতে পারেন। :) )

--Tareq I Imon

অনুভূতির বিদ্রোহ

মনের নিদ্রিত অনুভূতিগুলো মাঝে মাঝে বিদ্রোহ করে ওঠে। তাদের আক্ষেপ— কেন তাদের এতো অবহেলা করি; কেন তাদের চাওয়া আমি বুঝতে চাই না; কেন তাদের বার বার ভুলিয়ে রাখি। কিন্তু তাদের এটা বুঝাতে পারি না, আমিও যে সভ্যতার কাছে শৃঙ্খলিত; আর ভবিষ্যতের কাছে অবরুদ্ধ।

--Tareq I Imon

জীবনের বিষণ্ণতা

জীবনের বিষণ্ণতা কখনও আড়াল হয়ে যায় ফিরে আসা সুখের আবরণে। সেই আবরণ অবিস্তীর্ণ। সেই সময় ক্ষণিকের। তবুও জীর্ণ মনের প্রাণ ফিরে পাওয়া..। কিছুটা ছোটাছুটি; কিছুটা উচ্ছ্বাস।  যেন গভীর সমুদ্র হতে কোনো বাতাস এসে প্রাচীন পরিত্যক্ত কোনো ঘরে জমে থাকা পুরোনো ধুলো সরিয়ে দিল। তারপর... তারপর এভাবে সময়ের প্রান্তে এসে, কে যেন বলে দেয়, "এ পথ তোমার নয়, ফিরে এসো.."

--Tareq I Imon

কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করা হোক

সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ— প্লিজ, এই কোটা পদ্ধতি সংস্কার করুন। ৫৬% কোটা নামক এই প্রহসন বন্ধ করুন। মেধাবীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, রাতজাগা পরিশ্রমকে কোটার কাতারে এনে এভাবে অবমূল্যায়ন করবেন না। আমরা 'বাংলাদেশ' নামক স্বাধীন দেশের নাগরিক। কিন্তু ১০০টা আসনের মধ্যে ৫৬ জনই নিয়োগ হবে কোটায়— এই ব্যবস্থা সেই স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারটুকু চাই। ৫৬% কোটা দিয়ে একজন মেধাবীর স্বপ্নকে হত্যা করবেন না। মেধাবী এবং কোটাধারীদের মধ্যে এই বৈষম্য বন্ধ হোক।
.
(যারা কোটা সংস্কারের দাবি জানাতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে কথা বলছে তাদের সম্পর্কে বলতে চাই, তারা হয় এই আন্দোলনের সঠিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানে না, না-হয় এই আন্দোলনকে সমালোচিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই এইসব করছে)

-- Tareq I Imon

The list of Universities where Department of Public Administration runs

The list of Universities where Department of Public Administration runs:
1. University of Dhaka
2. University of Chittagong
3. University of Rajshahi
4. Jahangirnagar University
5. Jagannath University
6. Comilla University
7. University of Barisal
8. Begum Rokeya University
9. SUST
10. Gopalgonj science and technology
11. Kabi Nazrul (Trishal) University
12. Bangladesh University of Professionals
13. Stamford University
14. Pabna Science and Technology
15. Islamic University, Kushtia
16. German University of Bangladesh
.
--Salman Rushdi

কোটা ব্যবস্থার সংস্কার চাই

৫ টি দাবিঃ
১. কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬% থেকে ১০%-এ নিয়ে আসা হোক।
২. কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধায় নিয়োগ দেওয়া হোক।
৩. চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার নয়।
৪. কোটায় কোন ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা নয়।
৫. চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাটমার্ক্স ও বয়সসীমা চাই।

মায়ারাম দীঘিপাড়ের স্কুল, আর আমার স্মৃতি : দোহাজারী জামিজুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

৫ম শ্রেণির PEC পরীক্ষায় পাস করার পর ২০১২ সালে আমি এই স্কুলে ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হই। এরপর ২০১৪ সালে JSC এবং ২০১৭ সালে SSC পাস করি..। ২০১২-২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ বছর এই স্কুল প্রাঙ্গণে কাটিয়ে এখন আমি কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছি। যদিও নতুন পরিবেশ, নতুন কলেজে প্রবেশ করেছি তবুও সেই ৬ বছরের কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত, সুখ, আনন্দ, ভালোবাসা, স্যার ম্যাডামদের আন্তরিকতা আমি ভুলতে পারি না। মনে হয়, এই ৬ টি বছর যেন আমার পুরো জীবনটাকেই দখল করে নিয়েছে।

মনে পড়ে ফেলে আসা সেই  দিনগুলোর কথা। বান্ধবীদের নিয়ে আড্ডা, পড়াশোনা, কোনদিন সামনের বেঞ্চে বসে অতি মনোযোগ সহকারে ক্লাস করা,আবার কখনো পেছনে বসে বান্ধবীদের সাথে গল্পে গল্পে সময় কাটানো, দিঘীর পাড়ে ঘোরাফেরা, জসিম ভাইয়ের দোকান ও নুরুদা'র দোকান থেকে ছোলা-মুড়ি খাওয়াসহ আরো অনেক স্মৃতি-- যা বলতে গেলে হয়তো দিনটাই শেষ হয়ে যাবে।

আমি এই স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে পড়াশোনায় ততটা মনযোগী ছিলাম না। কিন্তু এই স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর স্যারদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণায় পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি বেড়ে যায়। এই স্কুল থেকে প্রথমবারের মতো আমাদের ক্লাস থেকে ৬ জন GPA 5 পায়, এবং এই ৬ জনের মধ্যে ছিলাম আমিও। যেটা ছিল আমার স্কুলজীবনের সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতিগুলোর একটি।

আমাদের ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, নাচগান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। এবং প্রতিটি শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিশেষ করে আমাদের প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় বাবু বিষ্ণু যশা চক্রবর্তী স্যার ছিলেন আমাদের প্রধান উৎসাহদাতা। তিনি আমাদের বিভিন্ন কাজে বিভিন্নভাবে সাহস যোগাতেন।

আরও মনে পড়ে এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধেয় রবিউল ইসলাম খানের সাথে ক্লাস পার্টিতে নাচগান করা, মাননীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে দেখা করা, তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব লুৎফর রহমানের সাথে দেখা করা, তার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করা, শুদ্ধ বানান চর্চায় চন্দনাইশে ৪র্থ স্থান অধিকার করায় ড. আমীনের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়াসহ আরো অনেক অর্জন। আর এইসব অর্জনের সাথে আমার এই স্কুল এবং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এখন আমি কলেজে পড়ি। প্রতিদিন কলেজে যাই, কলেজের দৈনন্দিন পড়াশোনা শেষ করি। কিন্তু আমার মনটি পড়ে থাকে দিঘীপাড়ের এই স্মৃতিমাখা স্কুলটিতে। আমার অবচেতন মন নিজের অজান্তেই সবসময় স্মরণ করিয়ে দেয় ফেলে আসা সেই সোনালি দিনগুলোর কথা।

সবশেষে রবিঠাকুরের গানের দুটি লাইন দিয়ে শেষ করি,
"পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি
রে হায়।
ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।"

হ্যাঁ, সত্যিই তাই। এই পুরোনো দিনের কথা, এই স্মৃতির আবরণ, এই প্রাণের কথামালা কখনও ভোলা যায় না...

-- আফরিন সুলতানা দিনা, ২০১৭ ব্যাচ, Dohazari Jamijuri Girl's High School..