৫ম শ্রেণির PEC পরীক্ষায় পাস করার পর ২০১২ সালে আমি এই স্কুলে ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হই। এরপর ২০১৪ সালে JSC এবং ২০১৭ সালে SSC পাস করি..। ২০১২-২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ বছর এই স্কুল প্রাঙ্গণে কাটিয়ে এখন আমি কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছি। যদিও নতুন পরিবেশ, নতুন কলেজে প্রবেশ করেছি তবুও সেই ৬ বছরের কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত, সুখ, আনন্দ, ভালোবাসা, স্যার ম্যাডামদের আন্তরিকতা আমি ভুলতে পারি না। মনে হয়, এই ৬ টি বছর যেন আমার পুরো জীবনটাকেই দখল করে নিয়েছে।
মনে পড়ে ফেলে আসা সেই দিনগুলোর কথা। বান্ধবীদের নিয়ে আড্ডা, পড়াশোনা, কোনদিন সামনের বেঞ্চে বসে অতি মনোযোগ সহকারে ক্লাস করা,আবার কখনো পেছনে বসে বান্ধবীদের সাথে গল্পে গল্পে সময় কাটানো, দিঘীর পাড়ে ঘোরাফেরা, জসিম ভাইয়ের দোকান ও নুরুদা'র দোকান থেকে ছোলা-মুড়ি খাওয়াসহ আরো অনেক স্মৃতি-- যা বলতে গেলে হয়তো দিনটাই শেষ হয়ে যাবে।
আমি এই স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে পড়াশোনায় ততটা মনযোগী ছিলাম না। কিন্তু এই স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর স্যারদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণায় পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি বেড়ে যায়। এই স্কুল থেকে প্রথমবারের মতো আমাদের ক্লাস থেকে ৬ জন GPA 5 পায়, এবং এই ৬ জনের মধ্যে ছিলাম আমিও। যেটা ছিল আমার স্কুলজীবনের সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতিগুলোর একটি।
আমাদের ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, নাচগান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। এবং প্রতিটি শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিশেষ করে আমাদের প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় বাবু বিষ্ণু যশা চক্রবর্তী স্যার ছিলেন আমাদের প্রধান উৎসাহদাতা। তিনি আমাদের বিভিন্ন কাজে বিভিন্নভাবে সাহস যোগাতেন।
আরও মনে পড়ে এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধেয় রবিউল ইসলাম খানের সাথে ক্লাস পার্টিতে নাচগান করা, মাননীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে দেখা করা, তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব লুৎফর রহমানের সাথে দেখা করা, তার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করা, শুদ্ধ বানান চর্চায় চন্দনাইশে ৪র্থ স্থান অধিকার করায় ড. আমীনের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়াসহ আরো অনেক অর্জন। আর এইসব অর্জনের সাথে আমার এই স্কুল এবং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এখন আমি কলেজে পড়ি। প্রতিদিন কলেজে যাই, কলেজের দৈনন্দিন পড়াশোনা শেষ করি। কিন্তু আমার মনটি পড়ে থাকে দিঘীপাড়ের এই স্মৃতিমাখা স্কুলটিতে। আমার অবচেতন মন নিজের অজান্তেই সবসময় স্মরণ করিয়ে দেয় ফেলে আসা সেই সোনালি দিনগুলোর কথা।
সবশেষে রবিঠাকুরের গানের দুটি লাইন দিয়ে শেষ করি,
"পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি
রে হায়।
ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।"
হ্যাঁ, সত্যিই তাই। এই পুরোনো দিনের কথা, এই স্মৃতির আবরণ, এই প্রাণের কথামালা কখনও ভোলা যায় না...
-- আফরিন সুলতানা দিনা, ২০১৭ ব্যাচ, Dohazari Jamijuri Girl's High School..
No comments:
Post a Comment